প্রেম ঘটিত কারণে কলেজে দফায় দফায় বহিরাগতদের হামল

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০২৫

ময়মনসিংহ নগরের শম্ভুগঞ্জ জিকেপি কলেজে এক ছাত্রীর প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কলেজে বহিরাগতদের দফায় দফায় হামলার ঘটে। ঘটনার পর কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তবে, ঘটনাটি রাজনৈতিক দুটি গ্রুপে দন্ধ সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

গত সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল দশটা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত দিনভর উত্তেচনা চলে কলেজে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বিকেলে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কলেজসূত্রে জানা গেছে, কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে পছন্দ করে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী। একই মেয়েকে প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থীও পছন্দ করে। এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থী সোমবার সকাল ১০ টার দিকে কলেজ চত্বরে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে দুই বর্ষের শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পর দেয়। পরে কলেজ কতৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমবর্ষের ছাত্রকে কলেজের একটি রুমে বসিয়ে রাখে। এসময় কলেজের একটি মিটিং চলছিল। মিটিং শেষে বিচার করবেন বলে আশ্বাস দেয় কলেজ কতৃপক্ষ। এসময় রুমে বসে থাকা প্রথমবর্ষের ছাত্র মোবাইলে তার বন্ধু ও পরিবারের লোকজনকে ৎবন দেয়।

খবন পেয়ে তারা দেশিয় অস্ত্র নিয়ে কলেজে হামলা চালায়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কলেজ কতৃপক্ষ বিষযটি মিমাংসার একপর্যায়ে চলে যায়। এসময় শম্ভুগঞ্জ মোড়ের বিএনপি নেতা আজিজুল হক ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে কলেজ গেইটে উপস্থিত হয়। এসময় কলেজের গেইট খুলে দিতে বললে কলেজের পিয়ন গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এসময় কলেজের ভিতরে উপস্থিত বিএনপি কর্মী স্বপন মিয়া গেইটে গিয়ে আজিজুল হককে বলেন, সবাইকে নিয়ে কলেজে ডুকলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আপনি একা ডুকলে আমি গেইট খুলে দেব। তিনি একা কলেজে প্রবেশ করবেন বলে জানালে গেইট খুলে দিলে তার মাথে লোকজন সবাই কলেজ ডুকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কতৃপক্ষ।

এবিষয়ে বিএনপি কর্মী স্বপন মিয়া বলেন, প্রথম দফায় হামলার পর আমরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। তবে, আজিজুল হক ও তার লোকজন কলেজে প্রবেশ করে আবারও হামলা করে। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করতে চেয়েছিল। তবে, কলেজ কতৃপক্ষের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসুচি থেকে পিছিয়ে আসে। কলেজ কতৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নেয়, সেটা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সহসভাপতি আজিজুল হক বলেন, আমি ঘটনা শুনে মিমাংসা করার জন্য ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের ছোট ভাই স্বপন লোকজন কলেজের ভিতরে তার লোকজন নিয়ে দাড়িয়ে আছে। এসময় গেইটে তালা লাগানো ছিল। আসি গেলে তালা খুলে দিলে কলেজ প্রাঙ্গনে প্রবেশ করি। তবে, আমার সাথে কোন লোকজন ছিল না। প্রতিপক্ষের কিছু লোক গেইট খুলে দিলে আমার সাথে প্রবেশ করে। এসময় স্বপনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। হামলার সময় এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এসময় কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনো। তখন আমি স্বপনকে বলি, ওই ছেলে যদি মারা যায়, তাহলে তোমাকে হুকুমের আসামী করে মামলা করব। পরে কলেজ কতৃপক্ষ কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ সুলতানা পারভীন বলেন, কলেজে দফায় দফায় হামলার পর অজ্ঞান হয়ে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েই এসেছিলাম। পরে একটি পক্ষ আবারও হামলা করে। যে কারণে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করে। তবে, দঢায় দফায় কারা হামলা করেছে, তাদের কাউকেই আমি চিনি না। তবে, কয়েকদিন পর পর কলেজে এভাবে হামলা করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে। আমরা আগামী দুই একদিনের মাঝে স্থানীয়দের সাথে বসে কথা বলে মিমাংসার চেষ্টা করব। যদি মিমাংসা না হয়, তাহলে আইনের সহায়তা নেব। তবে, বারবার এভাবে বহিরাগতরা হামলা করবে। এটা আর মেনে নেয়া হবে না।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, এক মেয়েকে দুজন পছন্দ করে- এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি অন্য পর্যায়ে চলে যায়। হামলার ঘটনায় একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তবে, এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভুযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।