দুর্নীতিগ্রস্ত ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহার আচারণেও কাঁদান মানুষকে নিউজ ২৪ঘন্টা নিউজ ২৪ঘন্টা প্রকাশিত: ৪:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৫ সেবার নামে ঘুষ-দুর্নীতির পাশাপাশি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে অফিস কর্মচারীদের নানা ভাবে নাজেহালের অভিযোগ উঠেছে। নিজের বিরুদ্ধে নাজমুন নাহারের তোলা অপবাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝরে কেঁদেছেন কর্মচারী নাজমা আক্তার। এদিকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিয়েও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ ভুক্তভোগিদের। ভূমি অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি এবং ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার খাগডহর ভূমি অফিসে ঢোকার আগ মুহুর্তেই কাগজ হাতে দুইজন ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখাযায়। একজন অফিসের অলিখিত স্টাফ চান মিয়া এবং অপরজন সেবাপ্রার্থী আলাউদ্দিন। জমি খারিজ করতে কতো টাকা লাগবে সেই বিষয়টি ফয়সালা করছিলেন আলাউদ্দিনের সাথে চান মিয়া। সাংবাদিক দেখে পালানোর চেষ্টা করেন চান মিয়া। পরে দাঁড়াতে বললে তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, উনি (আলাউদ্দিন) আমার সম্পর্কে চাচা হয়। আজ অফিসে স্যার নেই তাই উনি খারিজের জন্য কাগজপত্র নিয়ে আসছেন সেগুলো দেখছি। আমি কি অফিসের স্টাফ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না আমি অফিসের স্টাফ নই। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে স্যারের (ভূমি কর্মকর্তা) কাজকাম করছি। এতে করে প্রতিদিন ২০০-৩০০ করে টাকা পাই। তবে অন্যের কাছ থেকে কোন জোর করে টাই নেই না। সেবাপ্রার্থী আলাউদ্দিন বলেন, ৯ শতাংশ জমি খারিজ করতে হয়। তাই কাগজপত্র নিয়ে আসছিলাম ভূমি অফিসে। পরে চান মিয়া অফিসের পেছনে আমাকে নিয়ে আসছে। কয় টাকা লাগলে না লাগনে আলাপ শুরু করেছিলাম। তখনই আপনারা আসছেন। এবার নজর ভূমি অফিসের ভেতরে। এদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহারকে পাওয়া না গেলেও দেখা মেলে অনেক সেবাপ্রার্থীর। অভিযোগ টাকা দিয়েও কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত তারা। আফজাল আলী মারজু নামে একজন বলেন, আমি দলিল লেখক; ভূমি অফিসের প¦ার্শবর্তী ঢোলাদিয়ার বাসিন্দা। এক অসহায় নারীকে অফিস খরচে দলিল করে দেওয়ার পর খারিজের জন্য ভূমি অফিসে আসি। তখন ম্যাডাম (ভূমি কর্মকর্তা) আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে বলি আপনি নারী হয়ে অন্য এক অসহায় নারীর প্রতি আপনার সহানুভূতি থাকবে না। আসলে আমরা যদি প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে পরিবর্তন না হই তাহলে দেশটা পরিবর্তন হবে না। তাজুল ইসলাম নামে আরেক সেবাপ্রার্থী বলেন, জমি খারিজের জন্য একটি ফাইল নিজ চোখে দেখবো বলে ১৫ দিন ধরে ঘুরছি। আসলেই ম্যাডাম বলে আজ না কাল। তাহলে কোথায় গিয়ে সেবা পাবো বলেন। ভূমি কর্মকর্তার টাকা নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন অফিস সহায়ক নাজমুন নাহার নাসরিন। তিনি বলেন, ম্যাডাম নায়েবের চেয়ারে বসে টাকা নেন; তা নিয়ে বাইরে সমালোচনা হয় শুনতেও খারাপ লাগে। উনি নায়েব হিসেবে তা করতে পারেন না। শুধু ঘুষেই সীমাবদ্ধ নন ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। তার অপবাদে অঝরে কাঁদেন অফিস সহকারী নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, আমি একজন স্বামী পরিত্যক্তা। তিন সন্তান নিয়ে চাকরিটাই ভরসা। ম্যাডামের রুমে বসার জন্য আগে একটা চেয়ার ছিল। সে চেয়ারটা তিনি সরিয়ে দিয়েছেন সবসময় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। এক ভদ্র মুরুব্বি দিয়ে আমার চরিত্রে কালিমা লেপন করতে চেয়েছেন। একজন কর্মকর্তা এমন ভাবতেও খারাপ লাগে। এগুলো বলতে বলতে অঝরে দু’চোখের পানি ফেলেন। খাগডহর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ৪-৫ দিন হলো আমি অফিসে যোগদান করেছি। তাই সববিষয়ে অবগত নই। শুনেছি চান মিয়া আগে থেকই এই অফিসে কাজ করেন। তবে কাজ করতে গিয়ে তিনি যদি কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নেন, তাহলে সেটা কোন ভাবেই কাম্য নই। তবে মুঠোফোনে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা নাজমুন নাহার তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে বলেন, সরকারি চাকরী করতে এসে বাইরের গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে যদি অফিসে চাকরী করা সঠিক হয় তাহলে আমার বলার কিছু নেই। ভালো মানুষের জায়গা নাই আমার দোষ আমি ষড়যন্ত্র বুঝি কম। খাগডহর ভূমি অফিসের বিষয়টি নজরে আসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমি নিজেই খোঁজ-খবর নিচ্ছি। শিগরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: