সবজির রাজধানীখ্যাত চরাঞ্চলে টমেটো খেতে মড়ক নিউজ ২৪ঘন্টা নিউজ ২৪ঘন্টা প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ময়মনসিংহের সদরে সবজির রাজধানীখ্যাত চরাঞ্চলে টমেটো খেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে গাছ মরে ঝরে পড়ছে আধা-পাকা টমেটো। তবে, এমন পরিস্থিতিতে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। টমেটো চাষে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। সম্প্রতি জেলার সদরের সবজির রাজধানীখ্যাত বোররচর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বিস্তৃত জমিতে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, করলা এবং কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। সর্বত্রই সবুজের সমারোহ। তবে বাম্পার ফলন হওয়া টমেটো খেতে দেখা দিয়েছে মড়ক। এ কারণে আধা-পাকা টমেটো গাছ থেকে ঝরে পড়ছে। সেই টমেটো তুলে কৃষকরা ফেলে দিচ্ছেন। নানা ধরণের কীটনাশক প্রয়োগ করেও মেলছে না সমাধান। ওই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৭৭ শতাংশ জমিতে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে টমোটো আবাদ করেছি। প্রথমে একবার চারা রোপন করার পরেই সেই চারা মারা যায়। পরে আবার পুনরায় টমেটোর চারা রোপন করা হয়। গাছে যখন ফলন এসে পাকতে শুরু করার সময় অজানা রোগে গাছ মরে টমেটো ঝরে পড়ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা এবং পরামর্শ কোনটাই পাচ্ছি না। অন্তত তাদের পরামর্শ পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এবার যে ক্ষতি হয়েছে আগামী পাঁচ বছরেও তা পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। একই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এ বছর আমি ১৬০ শতাংশ জমিতে টমেটো আবাদ করেছি। ফলন হয়েছিল দেখার মত। কিন্তু খেতের অধিকাংশ গাছ মরে গিয়ে টমেটো পড়ছে। এসব টমেটো ডোবাতে ফেলে দিচ্ছি। টমেটো আবাদ করতে গিয়ে এখনো ৬ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে রয়েছি। এসব আপনাদের বলেও লাভ নেই। আমার মত সকল কৃষকেরই একই সমস্যা। কিভাবে কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী বলেন, এবছর চরাঞ্চলে এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। টমেটো গাছে মড়ক লেগেছে শুনার পরপরেই চরাঞ্চলে গিয়েছি। খেতে পরিদর্শন করে কৃষকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেছি। প্রাথমিক ভাবে বুঝা যাচ্ছে প্রতিবছর একই জমিতে শুধু টমেটো চাষ করার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কৃষকরা অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করেন। যার কারণে মড়ক অব্যাহত রয়েছে। সেখানকার মাটি পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট কারণ যাচাইয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, জেলায় এবছর ২২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ফলনও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে। তবে জেলার সদর উপজেলার চরাঞ্চলে টমেটো গাছ মরে যাওয়ার খবর শুনে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কৃষকরা বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলে আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। SHARES সারা বাংলা বিষয়: