ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতায় অকেজো ৯ কোটির সেতু

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৫
## ভোগান্তিতে পড়েছে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ
## ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত চলাচলের উপযোগ করা হবে সেতু
ময়মনসিংহের ফুলপুরে সংযোগ সড়কের ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে ৯ কোটি টাকার সেতুর কাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সেতুর দুই পারের হাজার হাজার মানুষ।
সুত্র জানায়, উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের সুতারকান্দি ও ছোট চিলাগাই গ্রামের খড়িয়া নদীর উপর ৯ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হয়। তবে, সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি।
সেতুটি নির্মিত হওয়ার মাধ্যমে জণসাধারণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি ব্যবহারযোগ্য না হওয়াটা সেতু নির্মাণের সার্থকতাকে যেন উপহাস করছে।
সুত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুর‌্যাল ব্রিজেস প্রকল্পের আওতায় ৮৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। তবে, স্থানীয় প্রকৌশলী বলছেন সেতুর কার্পেটিং এর কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। এছাড়া ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে সেতুর সংযোগ সড়ক।
সড়ক থেকে সেতুর পাটাতন প্রায় ১০ ফুট ওপরে থাকায় স্থানীয় লোকজন কিছু মাটির বস্তা ফেলে কোনো রকমে সেতু দিয়ে চলার চেষ্টা করছেন। কোনো বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষের পক্ষে এই সেতু দিয়ে পারাপার করা সম্ভব নয়। সংযোগ সড়কের অভাবে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জনসাধারণকে দ্বারাকপুর ও ভাইটকান্দি হয়ে ৫ কিলোমিটার ঘুরে মালামাল পরিবহণ করতে হয়।
সুতারকান্দি গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী আবু তারিক বলেন, এই জায়গায় এক সময় ফেরিঘাট ছিল। তখন জনসাধারণ মালামালসহ খেয়া নৌকার মাধ্যমে পারাপার করতো। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের পর খেয়া নৌকা বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। শুনেছি, ভুমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ হচ্ছে না।
ছোট চিলাগাই গ্রামের কৃষক রবিজুল বলেন, সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য অনেক রাস্তা ঘুরে বাজারজাত করতে বাড়তি টাকা খরচ হয়ে যায়। সেতু দিয়ে কৃষিপণ্য আনা-নেয়া সম্ভব না হওয়ায় দুইপারের বাজারে কাঁচা পণ্যের মূল্যে মণপ্রতি ২ থেকে ৩ গুন টাকার ব্যবধান থাকে।
সুতারকান্দি গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, সুতারকান্দি থেকে নদীর ওপারে বাহাদুরপুরে ভাইটকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ৪ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এছাড়া নদীর উভয় পারে স্কুল-মাদরাসাসহ ন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেতুর সংযোগ সড়কের ভুমি অধিগ্রহণের কারণে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। জমির মালিকদের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের কষ্ট লাগব হবে।
ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, মেতুর সংযোগ সড়কে ব্যক্তিমালিকানা জমি থাকায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকদের সাথে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।