দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে খুলনা শহরের বেহাল অবস্থা নিউজ ২৪ঘন্টা নিউজ ২৪ঘন্টা প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০ মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনার প্রধান প্রধান সড়কসহ প্রায় প্রত্যেক মহল্লা। নগরবাসীকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয় প্রায় প্রতিদিন। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও সড়কগুলোতে জমে থাকছে নোংরা পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতা আর দীর্ঘদিন ধরে চলমান আধুনিক ড্রেন নির্মাণকাজে অত্যন্ত ধীরগতির কারণে চলতি বর্ষা মৌসুম এমন দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে পার করতে হবে বলে জানান নগরবাসী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে ছিল খুলনার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শুরু হয় বর্ষণ। একনাগাড়ে তা চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। বৃষ্টির শুরু থেকে নগরীজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা চলে আসে রাস্তায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। নগরীর পিটিআই মোড়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সাদি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই মোড়ের ছয়টি রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। রাস্তার পর গত দুই বছর আগে করা উঁচু স্থানগুলোর কারণে পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। নদীতে ভাটা শুরু না হলে এই পানি সরে না। এজন্য ৪-৫ ঘণ্টা ধরে এই নোংরা পানির মধ্যেই চলাচল করতে হয়। প্রতি বর্ষায় নগরীর এমন জলাবদ্ধতার জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করেছেন তিনি। তার মতো বেশ কয়েকজন পথচারী জানান, একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মানুষ চলতে পারে না। রাস্তায় গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ হয়ে যায় পানির তোড়ে। শুধু পিটিআই মোড়ই নয়, আজকের ভারী বৃষ্টিতে মহানগরীর সাত রাস্তার মোড়, দোলখোলা, টুটপাড়া মোড়, মুজগুন্নী বাস্তুহারা, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার প্রথম ফেজ, গোবরচাকা, নবীনগর, বয়রা বাজার মোড়, জব্বার সরণি, জলিল সরণি, শামসুর রহমান রোড, কেডিএ এভিনিউ এলাকার অধিকাংশ ভবনের নিচতলায় পানি প্রবেশ করেছে। ড্রেনের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় মহানগরীর শান্তিধাম মোড়, রয়্যালের মোড়, পূর্ব বানিয়াখামার, নিরালা, দোলখোলা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, বাইতিপাড়া, খানজাহান আলী রোড, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। খুলনা আঞ্চলিক আওহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনায় দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টার ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। এসময়ের মধ্যে মোট ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এবারের বর্ষা মৌসুমে স্বল্পসময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। SHARES সারা বাংলা বিষয়: