তিন বছর ধরে খোঁজাখুঁজি… অতঃপর মিলল মা

প্রকাশিত: ৭:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

তিন বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে ফিরে পেল একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান (১৮)। বৃহস্পতিবার রাতে বাগেরহাটের শরণখোলার তাফালবাড়ী বাজারের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ছেলে ও ভাই খুঁজে পায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেরিনা বেগমকে (৪৮)। দীর্ঘদিন পর মাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে ছেলে। রাত ৯টার দিকে ওই নারীকে শরণখোলা প্রেস ক্লাবে নিয়ে এলে সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ছেলের কাছে থাকা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জানা যায়, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার গগন গ্রামে মেরিনা বেগমের বাড়ি। স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। ১৯৭২ সালের ২ জুলাই তাঁর জন্ম।
ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, দিনমজুর বাবা মারা যান প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে। এর পর থেকেই মা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

তাদের তিন ভাই-বোনকে রেখে হঠাৎ একদিন মা নিখোঁজ হন। বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। ছয় মাস আগে আমাদের এলাকার পরিচিত এক ব্যবসায়ী শরণখোলায় এসে মায়ের মতো একজনকে দেখেছেন বলে জানান। খবর পেয়ে ওই সময়ও এসেছিলাম; কিন্তু মাকে পাইনি।

তখন তাফালবাড়ী বাজারের বাদল হাওলাদার নামের এক জুতার দোকানদারকে আমার মোবাইল নম্বর ও মায়ের ছবি দিয়ে বলে গিয়েছিলাম সন্ধান পেলে জানাতে। তিনি মাকে দেখে আটকে রেখে আমাদের খবর দেন। পরে মামা মিন্টু ব্যাপারীকে নিয়ে মায়ের কাছে আসি। ওই ব্যবসায়ীর কারণে আজ আমার মাকে ফিরে পেয়েছি।

সন্ধানদাতা তাফালবাড়ী বাজারের জুতার ব্যবসায়ী মো. বাদল হাওলাদার বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে ওই নারীকে তাফালবাড়ী বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখি। মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও কখনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখিনি তাকে।

প্রায় আমার দোকানের সামনে এসে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকত। দু-এক টাকা দিলে চলে যেত। ছেলের কাছে তার মাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে নিজের কাছে খুবই ভালো লাগছে।

মেরিনা বেগমের ভাই মো. মিন্টু ব্যাপারী হারিয়ে যাওয়া বোনকে ফিরে পেয়ে খুবই আনন্দিত। তিনি শরণখোলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।