ময়মনসিংহে বড় মসজিদ মাদ্রাসায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিউজ ২৪ঘন্টা নিউজ ২৪ঘন্টা প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৫ ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ফয়জুর রহমান বড় মসজিদ মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দুই পক্ষের সংর্ঘষের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদ্রাসায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। এর আগে গতকাল (সোমবার) রাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মাদ্রাসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুইটি পক্ষের বৈঠকের পর হঠাৎ উত্তেজনাকর পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংর্ঘষে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. শহীদুল্লাহ (৪৭) নামের এক জন আহত হন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ হস্থক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুফিদুল আলম এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য মাদ্রাসা ছুটি ঘোষনা করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এই আদেশ অমান্য করে মাদ্রাসার কার্যক্রম যথারীতি চালু রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে দফায় দফায় বিক্ষোভ সমাবেশে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য হাফেজ শহীদুল্লাহকে দায়ি করে বিচার দাবি করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি পদ থেকে জেলা প্রশাসক মো. মুফিদুল আলমের পদত্যাগ দাবী করেন। মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ প্রভাববিস্তারের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকান্ডে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ শহীদুল্লাহকে মাদ্রাসায় প্রবেশ করালে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা চড়াও হলে তিনি কিছুটা আহত হন। বর্তমানে মাদ্রাসায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, বলেও জানান তিনি। তবে এই অভিযোগ বিষয়ে জানতে মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে অসুস্থতার ক্ষীন কন্ঠে হাফেজ শহীদুল্লাহ বলেন, আমি কথা বলতে পারছি না।’ এ সময় তার ছেলে আহাম্মারুল ইসলাম আহাম্মার বলেন, আব্বু হাসপাতালে ভর্তি আছেন, উনি কথা বলতে পারবেন না। সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ অক্টোবর মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে চারিত্রিক, আর্থিক কেলেংকারী, পরিবারতন্ত্র ও আধিপত্যবিস্তারের অভিযোগ উঠে। এসব ঘটনায় দফায় দফায় জেলা প্রশাসনের তদন্তে পক্ষে-বিপক্ষে মত যায়। এনিয়ে মাদ্রাসার দুইটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরী হলে গত কয়েত মাস ধরে ধর্মীয় শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটিতে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এনিয়ে মামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, বিবাদমান দুইটি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, আশা করছি উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাধানের পথে। বর্তমানে মাদ্রাসার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। মাদ্রাসার কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুফিদুল আলম বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সভা আহবান করা হয়েছে। সেখানে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। SHARES সারা বাংলা বিষয়: