নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কর্মবিরতি নিউজ ২৪ঘন্টা নিউজ ২৪ঘন্টা প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ চাকরী স্থায়ীকরণের একদফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসাবে ময়মনসিংহে কর্ম বিরতি পালন করছে নির্বাচন অফিসের প্রকল্পভুক্ত ডাটা এন্ট্রিসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পরিচালিত (আইডিইএ) প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী করণের এই কর্মসুচি পালন করছেন। এতে জেলার ১৩ উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড বিতরণ, এনআইডি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করে জেলার ১৩ উপজেলার নির্বাচন অফিসের প্রকল্পভুক্ত ডাটা এন্ট্রিসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আজ বুধবার তৃতীয় দিনের মত চলছে এই কর্মবিরতি। কর্মবিরতি শুরুর দিন থেকেই সেবা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সকালে অফিসের সামনে ভিড় দেখা গেলেও অফিসের টেবিল ছিল সম্পূর্ণ অচল। কর্মকর্তারা অফিসে উপস্থিত থাকলেও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণের এক দফা দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ২০০৭–০৮ সালে পিইআরপি ও ফিনডিক প্রকল্পের আওতায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ গঠনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে এনআইডি সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন ভোটার নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন, স্মার্টকার্ড বিতরণসহ সব প্রযুক্তিনির্ভর কাজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তারা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বহু বছর ধরে দক্ষতার সাথে কাজ করছি। এখন নতুন জনবল নিয়োগ দিলে পুরো ব্যবস্থাপনাই আবার নতুন করে সাজাতে হবে, যা অকার্যকর এবং সেবায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আশ্বাস দিলেও এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। চাকরি আত্মীকরণ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ মাত্র এক বছর বাকি। প্রকল্প শেষ হলে বেশিরভাগ কর্মচারী চাকরির বয়সসীমা পেরিয়ে বেকার হয়ে যাবেন। এদিকে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধনের জন্য আসা মো. ইমন বলেন, জরুরি কাজে এসেছি। কার্ড ঠিক না হলে চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে কিছুই করতে পারছি না। প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতিতে থাকা এক যুবক জানান, পাসপোর্ট রিনিউ করতে এনআইডি খুব জরুরি। কিন্তু শুনলাম কর্মকর্তারা কর্মবিরতিতে, যে কারণে বিপাকে পড়েছি। উপজেলার বালিয়ান থেকে আসা বৃদ্ধ মকবুল হোসেন বলেন, আমি বয়স্ক ভাভাতার কার্ড করতে নিজের নামে সিম কিনতে যাই। কিন্তু আমার ফিঙ্গার কাজ করে না, তাই ফিঙ্গার দিতে আসছি। তারা আন্দোলনে থাকায় আমি ফিঙ্গার না দিয়ে চলে যাচ্ছি। ময়মনসিংহ সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোতাহসিম বলেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে থাকায় সাময়িকভাবে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এটি সচিবালয়ের বিষয়। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। SHARES জাতীয় বিষয়: