আর কোনো জিকে শামীম তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই

প্রকাশিত: ১১:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

দেশের বহু বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের মত আর কোনো জিকে শামীম তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি।

তিনি বলেছেন, জিকে শামীমের মত দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের কর্মকাণ্ডে সরকার খুবই বিব্রত। এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। সরকার এধরণের দুর্নীতিবাজকে কঠোর হস্তে রূখে দিয়েছে। যাতে আর কেউ এ ধরণের কর্মকাণ্ডের সাহস না পায়।
রবিবার দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শরীফ আহমেদ এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য ও ভালোবাসা পেয়ে এ মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব পেয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর প্রথম সভা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির সব কাজ বাতিল করে দিয়েছি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তার প্রতিষ্ঠানের যেসব কাজ শেষ হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে যৌথ মূল্যায়ন চলছে। মন্ত্রণালয়ের ১৭ টি প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান। আগামীতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কোন প্রতিষ্ঠান এ ধরণের কাজ পাবে না।

এ মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শরীফ আহমেদ বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়ালে তিনি রেহাই পাবেন না। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডে’ জড়িতদের শাস্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের বস্তিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প নেয়ার কথা জানিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখনো দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাহত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা নির্দিষ্ট কোনো পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দের জন্য আবেদন করলে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কেউ গৃহহীন থাকবে না। এ ঘোষণার আলোকে নিম্নআয়ের অসহায় মানুষের গৃহায়ণের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে ঢাকার মিরপুরে ১১নং সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের আওতায় অসহায় মানুষের জন্য বাসস্থান/ফ্ল্যাট তৈরির লক্ষ্যে দেশের চিহ্নিত তিনটি পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন (কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ) এলাকায় বাসস্থান উন্নয়নের একটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রকল্পটিতে পাঁচ হাজার ৭০০ ইউনিট বাসস্থান নির্মাণ/সংস্কার/সম্প্রসারণের সংস্থান রাখা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল জেলার গৃহহীন মানুষের মাঝে স্বল্পখরচে ফ্ল্যাট ও প্লট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবাসন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি শরীফ আহমেদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী গ্রামে হবে শহরের সুবিধা-বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানীর উন্নয়নে ডিটেইল এরিয়া প্লান-ড্যাব বাস্তবায়ন করা হবে। পূর্বাচল শহরের মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পদ্মনদীর তীরে আধুনিক সুযোগ সুবিবধা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যালেটলাইট সিটি হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দেন এই প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের বাড়ীঘরের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। গণপূর্ত বিভাগের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে। কারণ সারাদেশে সব সরকারি ভবন গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ করে থাকে। চট্ট্রগাম, খুলনা সহ সব উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানোরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ শরীফ আহ্মেদ ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে ১৯৭০ সালের ২৫ জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা জননেতা শামছুল হক পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং একবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাবার অনুপ্রেরণায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন শরীফ আহমেদ। তৃণমূল থেকে উঠে আসা শরীফ আহ্মেদ ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য।

২০১৩ সালে তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত শরীফ আহমেদ। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন এবং তিনি দশম জাতীয় সংসদের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহ্মেদ বিবাহিত। তাঁর সহধর্মিনী মিসেস শেফালী বেগম বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।

(কালেরকন্ঠ)